পূর্ব বর্ধমান জেলাশাসকের দপ্তরে গ্রুপ ডির কর্মীর ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরীর নিয়োগপত্র, প্রশংসার বন্যা

Souris  Dey

Souris Dey

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: একেই বলে ছাই চাপা আগুন। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা ছাত্র যাকে গত প্রায় ১বছর ৩ মাস ধরে পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলাশাসকের চেম্বারে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী হিসাবেই সবাই জানতেন। সেই গুপীন মার্ডিই উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদে যোগ দিচ্ছেন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে। শুধু তাই নয়, এতদিনে জানা গেল এই গুপীন মার্ডিই ২০১৫ সালে বীরভূমের সিউিড়ির টেকনোলজি ইনষ্টিটিউটের সেরা দশের মধ্যে সপ্তম স্থানাধিকারী। 
তবে কেউ না জানলেও, জানতে পেরেছিলেন পূর্ব বর্ধমানের খোদ জেলাশাসক বিজয় ভারতী। তাই প্রায়শই তাঁর অফিসের এই গ্রুপ ডি কর্মীকে কোনো কাজের নির্দেশ দিতে গেলে একটু অস্বস্তিই ভোগ করতেন তিনি। তবে যেদিন তিনি গুপীনের এই যোগ্যতা সম্পর্কে জেনেছিলেন সেইদিন থেকেই ক্রমাগত তাঁকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন। গুপীন জানিয়েছেন, বীরভূমের নলহাটির আলমপুরে তাঁর বাড়ি। বাবা মেকাইল মার্ডি মারা যাওয়ার পর দাদু গুপীন মার্ডির (একই নাম) আশ্রয়েই তাঁরা বেড়ে ওঠেন। মা ছাড়াও সংসারে রয়েছেন তাঁর ভাই ম্যানুয়েল মার্ডি। সে বর্তমানে পড়াশোনা করছে। একটিমাত্র দিদি তার বিয়ে হয়ে গেছে। নিজেদের পৈত্রিক ৬ বিঘা জমিও আছে। তাই দিয়েই সংসার চলে। 
এদিকে, এই অবস্থায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই বীরভূমের টেকনোলজি ইনষ্টিটিউটে ভর্তি হয় সে। বি টেক পাস করেন সেরা দশের মধ্যে থেকেই। এরপর রাজ্য সরকারের আদিবাসী উন্নয়ন নিগমের সহায়তায় ডবলু বিসিএস পড়তে শুরু করে। একইসঙ্গে চলতে থাকে একটি বেসরকারী কোচিং সেণ্টারে ইঞ্জিনিয়ারিং পদে চাকরির জন্য পড়াশোনাও। গুপীন জানিয়েছেন, কিন্তু দুটি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সমস্যা হওয়ায় সরকারী সহায়তায় তিনি শিয়ালদহে বোস ইনষ্টিটিউটে ভর্তি হন। 
যথারীতি ডবলুবিসিএসের পড়াশোনা করলেও পরীক্ষা দেওয়া হয়নি তার। তার আগেই তার মন টানে ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ওপর। এরপর পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারিং পদে পরীক্ষা দেয় ২০১৮ সালে। তারপরেই রাজ্য সরকারের চতুর্থ শ্রেণীর পরীক্ষায় বসে। যথারীতি জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পদের রেজাল্ট বার হবার আগেই বেড়িয়ে যায় চতুর্থ শ্রেণীর রেজাল্ট। আর তাতেই চাকরী পেয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলাশাসকের চেম্বারে কাজে যোগ দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
গতবছর জুলাই মাস নাগাদ জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারিং-এর রেজাল্ট বের হয়। আর সম্প্রতি তাঁর নিয়োগপত্র হাতে এসে পৌঁছায়। গুপীন জানিয়েছেন, বর্ধমান জেলাশাসকের অধীনে গ্রুপ ডি-র চাকরী করতে এসে অনেক কিছুই তিনি শিখেছেন। জেলাশাসকের কাছ থেকে তিনি অনুপ্রাণিতও হয়েছেন দফায় দফায়। তবে গুপীন স্বীকার করেছেন, অনেক সময়ই জেলাশাসক তাকে দিয়ে কোনো কাজ করাতে গিয়ে অস্বস্তি বোধ করতেন। কিন্তু তার শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি মাথায় রেখেই জেলাশাসক বিজয় ভারতী তাকে বলে গেছেন, কাজের ফাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে।

তিনি জানিয়েছেন, জেলাশাসক তাঁকে পড়াশোনার জন্য অনেক সুযোগ করে দিয়েছেন। এদিকে, বৃহস্পতিবার গুপীনের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরী পাবার বিষয়টি চাউড় হতেই কার্যত চমকে ওঠেন জেলা প্রশাসনের কর্মীমহল। তাঁর এই সাফল্যে তাঁকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন তাঁরা। প্রশাসনিক আধিকারিকদের অনেকেই জানিয়েছেন, বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের কাছে গুপিন মার্ডি শুধু যে উদাহরণ হতে পারেন তাই নয়, কার্যত পরিশ্রম করলে যে একসময় অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছনো যায় তার প্রকৃষ্ট অনুপ্রেরণাও হতে পারেন গুপিন।

আরো পড়ুন