ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: এখনো বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট প্রকাশ হয়নি। তবে রাজনীতির পারদ যে ক্রমশ চড়তে শুরু করেছে তা বেশ টের পাচ্ছেন একদিকে যেমন রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা, তেমনি সাধারণ মানুষও। আর এখন কমবেশি সমস্ত রাজনৈতিক দলই তাকিয়ে রয়েছেন কে কোথায় প্রার্থী হচ্ছে – তার দিকেই। বিশেষ করে নজর রয়েছে রাজ্যের শাসকদল এবং বিজেপি শিবিরের দিকে। বিজেপির পক্ষ থেকে এব্যাপারে কেউ কোনো কথা বলতে না চাইলেও রাজ্যের শাসকদলের প্রার্থীপদ নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে জলঘোলা।
বিজ্ঞাপন
সোমবারই বর্ধমানের ভাতার বিধানসভা এলাকায় একাধিক পোষ্টার পড়েছে – ‘ভাতার বাসীর উন্নয়নের স্বার্থে ভূমিপুত্র বিধায়ক চাই। বহিরাগত বিধায়ক হঠাও ভাতার বাঁচাও।’ ভাতার বিধানসভার সাধারণ নাগরিকবৃন্দ- এর নামে জায়গায় জায়গায় এই পোষ্টার ঘিরে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উল্লেখ্য, ভাতারের
বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক সুভাষ মণ্ডলের বাড়ি পাশের ব্লক আউশগ্রামে। ইতিমধ্যেই সুভাষ মণ্ডলকে ঘিরে তর্জা চরমে উঠেছে। সমস্ত কর্মীদের নিয়ে না চলা, পুরনো কর্মীদের কোনোরকম গুরুত্ব না দেওয়া প্রভৃতি একাধিক অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে ক্ষোভ বিক্ষোভও হয়েছে ভাতার বিধানসভায়। স্বাভাবিকভাবেই ফের সুভাষ মণ্ডল যাতে ভাতারে টিকিট না পান তার জন্য শুরু হয়ে গেছে আলোচনা।
এদিকে, জানা গেছে, প্রতিটি বিধানসভায় কারা যোগ্য প্রার্থী হতে পারেন তার জন্য পিকের টিম ইতিমধ্যেই সমীক্ষা শুরু করে দিয়েছে। প্রতিটি বিধানসভায় কখনও সাধারণ মানুষকে আবার কখনও বিভিন্ন নেতাদের (ছোট, বড়) ফোন করে জানতে চাওয়া হচ্ছে কারা প্রার্থী হবার যোগ্য ? কারা প্রার্থী হলে ভাল হবে ? কারা প্রার্থী হলে জিতবেই – ইত্যাদি। এক্ষেত্রে দুই, তিন বা চার জন প্রার্থীর নাম বলা হচ্ছে। মজার বিষয়, বিভিন্ন জনকে ফোন করে বিভিন্ন নাম বলা হলেও কৌশলে দু-একটি নামকে সবক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হচ্ছে। কার্যত, যাচাই করে নেওয়া হচ্ছে ঠিক কার গ্রহণযোগ্যতা কতটা। জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে পূর্ব বর্ধমান জেলার ১৬টি বিধানসভারই একটি তালিকা প্রস্তুতও করা হয়েছে।
তৃণমূলের একাংশের দাবী, এবারের ভোটে বেশ কিছু আসনের রদবদল করে চমকে দেওয়া হতে পারে। ১৬টি আসনের মধ্যে আগেরবার জয়ী অনেককেই এবার টিকিট দেওয়া নাও হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওই সমস্ত বিধায়কদের নির্বাচন এলাকা পরিবর্তনও করা হতে পারে। সূত্র অনুযায়ী, এবার মঙ্গলকোট আসনে রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী আর দাঁড়াতে চাইছেন না বলে তাঁর ঘনিষ্ট সূত্রের খবর। সেক্ষেত্রে তিনি বর্ধমানের কালনা মহকুমার কোনো আসনে দাঁড়াতে পারেন। পরিবর্তন হতে পারে, ভাতার, গলসী, বর্ধমান উত্তর, বর্ধমান দক্ষিণ, রায়না, খণ্ডঘোষ, মেমারী, কালনা, মন্তেশ্বর, মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম, পূর্বস্থলীর একটি আসনেও।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কালনার বিধায়ক বিশ্বজিত কুণ্ডু এবং মন্তেশ্বরের বিধায়ক সৈকত পাঁজা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই ওই দুই আসনে নতুন দুজন প্রার্থী হবেন। আবার বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা আসনে আর দাঁড়াবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। ফলে এই কেন্দ্রেও নতুন মুখ আসতে পারে। সূত্রের খবর, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বড় কোনো অঘটন না হলে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের ৪জন সদস্য বিধানসভার টিকিট পেতে পারেন। টিকিট পেতে পারেন তৃণমূলের এক যুব নেতাও। ফলে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো ঘোষণা না হলেও টিকিট নিয়ে তদ্বির তদারকি ইতিমিধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন শাসক দলের অনেকেই বলে দলীয় সূত্রে খবর।