কোভিড বিধির গেরোয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীর আত্মীয়দের চরম ভোগান্তি

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: শুক্রবার রাতে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের তরফে বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে নতুন নিয়মকানুন জারি করা হয়েছে। আর শনিবার থেকে বর্ধমান শহরে সেই নিয়ম লাগু হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন দিনে ভিন্ন ভিন্ন রাস্তায় ডান দিক বাম দিক দোকানপাঠ খোলার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। আর এরপরই বিপত্তি দেখা দিল বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে। যেহেতু এই এলাকায় একদিকেই রয়েছে এইসমস্ত দোকানগুলো, তাই শনিবার সকাল থেকেই সমস্ত দোকান নিয়মের বেড়াজালে বন্ধ হয়ে যায়। সমস্ত দোকানপাঠ বন্ধ থাকায় চরম সমস্যা ও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন রোগীর পরিজনরা। 

শনিবার সকাল থেকেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উল্টোদিকে ওষুধ ছাড়া সমস্ত দোকানপাঠ বন্ধ ছিল। হাসপাতালের উল্টো দিকে অর্থাৎ শ্যামসায়রের পাড়ে রয়েছে একাধিক খাবারের দোকান, হোটেল থেকে শুরু করে ষ্টেশনারী দোকানও। এদিন এই সব দোকানপাঠ বন্ধ থাকায় দিশাহারা হয়ে পড়েন রোগীর পরিজনরা। উল্লেখ্য, প্রতিদিনই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজার হাজার রোগীর পরিজন সহ সাধারণ মানুষ আসেন। এই সব মানুষজন হাসপাতালের বাইরে ফুটপাতের দোকান থেকেই বিভিন্ন প্রয়োজন মেটান। খাওয়া দাওয়া থেকে রোগীর টুকটাক প্রয়োজনীয় জিনিসও পাওয়া যায় এই সমস্ত দোকান থেকে।

কিন্তু কোভিড বিধির গেরোয় এই সমস্ত দোকানপাঠ বন্ধ থাকায় শনিবার ভোগান্তির মুখে পড়েন সাধারণ মানুষজন। আরও সমস্যা দেখা দিয়েছে অনেকেই বর্ধমান শহরের রাস্তাঘাট ঠিকঠাক চেনেন না। এই সমস্ত দোকানপাঠ বন্ধ থাকায় কোথায় খাবার পাবেন বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য কোথায় যাবেন বুঝে উঠতে পারেননি। উল্লেখ্য, বর্ধমান হাসপাতালের ভেতরেই রয়েছে দুটি ক্যাণ্টিন। কিন্তু সেই ক্যাণ্টিনের পরিকাঠামো শয়ে শয়ে মানুষকে পরিষেবা দেবার উপযুক্ত হিসাবে এখনও গড়ে ওঠেনি। ফলে বাধ্য হয়েই হাসপাতালের বাইরের দোকানের ওপর ভরসা করতে হয় রোগীর পরিজনদের।

বর্ধমান পুর এলাকায় দ্রুত হারে করোনা বাড়লেও এদিন দেখা গেছে, জরুরী বিভাগের পিছন দিকের রাস্তার ধারে রোগীর পরিজনরা খাওয়াদাওয়া করছেন। দূর থেকে খাবার কিনে সকলে মিলে রাস্তায় খোলা আকাশের নীচে বসেই খেতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। এদিন এক রোগীর আত্মীয় সোমা রাজবংশী জানিয়েছেন, তাঁর মা ভর্তি আছেন। চিকিৎসক ডাব খাওয়াতে বলেছেন। কিন্তু বাইরে এসে দেখি সব দোকান বন্ধ। কি করব, বুঝতে পারছি না। অন্য রোগীর আত্মীয় মুন্সি রফিকুল হক, হেমন্ত দাসরা জানিয়েছেন, রোগীর প্রয়োজনের ফল সহ অন্যান্য কোন কিছুই মিলছে না। তাঁরা খুবই সমস্যায় পড়েছেন।

শুধু তাইই নয়, অনেক সময়ই রোগীর প্রয়োজনে গরম দুধ থেকে গরম জলও এই সমস্ত দোকান থেকেই মেলে রোগীর আত্মীয়দের। কিন্তু দোকান বন্ধ থাকায় সেই পরিষেবাও পাচ্ছেন না রোগীর আত্মীয়রা। এক রোগীর আত্মীয় জিতেন শর্মা জানিয়েছেন, হাসপাতালের ভিতরে একটি ক্যান্টিন রয়েছে। বাইরে সব বন্ধ থাকায় ওখানে ব্যাপক ভিড় হচ্ছে। খাবার পেতেও সমস্যা হচ্ছে। এদিকে, এই সমস্যার বিষয়ে এদিন বর্ধমান সদর মহকুমা শাসক (উত্তর) তীর্থঙ্কর বিশ্বাস জানিয়েছেন, সোমবার নয়া বিধিনিষেধ নিয়ে রিভিউ মিটিং আছে। কিন্তু এই বিষয়টি তাঁদের নজরে আসায় দ্রুততার সঙ্গে সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Recent Posts