ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান:গত প্রায় এক বছর ধরে লাগাতার বর্ধমান ২ নং ব্লকের বৈকুণ্ঠপুর ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন চলতে থাকার পর আচমকাই প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শর্মিলা মালিক। গত ২৭ আগষ্ট তিনি বর্ধমান ২নং ব্লকের বিডিও সুবর্ণা মজুমদারের কাছে তাঁর ইস্তফা পত্র জমা দিয়েছেন। আর এরপরেই শুরু হয়ে গেল তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের এক পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়েছে প্রধান তাঁর ব্যক্তিগত কারণের জন্যই ইস্তফা দিয়েছেন। যদিও তা মানতে নারাজ অন্যপক্ষ। এব্যাপারে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া জানিয়েছেন, প্রধান তাঁর ব্যক্তিগত কারণে ইস্তফা দিয়েছেন। এর সঙ্গে রাজনীতি বা দলীয় কোনো সম্পর্ক নেই।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরেই প্রধান শর্মিলা মালিকের বিরুদ্ধে এই পঞ্চায়েতের ৯জন নির্বাচিত সদস্য অভিযোগ তোলেন, প্রধান তাঁদের কিছু না জানিয়েই বিভিন্ন রকম কাজ করে চলেছেন। এতে বিভিন্ন সংসদ এলাকায় নির্বাচিত সদস্যদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাঁদের এলাকার মানুষের প্রশ্নের মুখে দাঁড়াতে হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, বারবার এব্যাপারে প্রধানকে বলা হলেও তিনি তাঁদের কথায় কর্ণপাত না করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এদিকে, পঞ্চায়েত আইনানুসারে নির্বাচিত সদস্য তথা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের আড়াই বছর আগে কোনোভাবেই অনাস্থা এনে সরানো যাবে না – এই আইনের বলে ৯ বিক্ষুব্ধ পঞ্চায়েত সদস্য অনাস্থা আনলেও তা গ্রাহ্য হয়নি। আর তারই মাঝে ২৭ আগষ্ট আচমকাই প্রধানের ইস্তফা দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
যদিও বারবার শর্মিলা মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, এই পঞ্চায়েতে মোট ১২জন সদস্যের মধ্যে ৯ জন সদস্যই প্রধানের ইস্তফা চেয়েছেন বারবার। পঞ্চায়েতের একটি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দুয়ারে সরকার প্রকল্পের প্যাণ্ডেল করা নিয়ে কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে। তারপরেই প্রধানের এই ইস্তফা অত্যন্ত আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।