বর্ধমানে করোনার জেরে ঘুড়ির মেলার আগেই মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের, মকর সংক্রান্তি নিয়ে কড়া পুলিশ

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: করোনার বাড়বাড়ন্তের কারণে এবার মাথায় হাত পড়ল ঘুড়ি ব্যবসায়ীদের। রাত পোহালেই বর্ধমানে ঘুড়ির মেলা। মকর সংক্রান্তি। আর ঠিক তার আগেই প্রশাসনের জারি করা বিধিনিষেধের গেরোয় বৃহস্পতিবার বর্ধমান শহর জুড়ে সমস্ত দোকান, বাজার বন্ধ। সারাবছরের মাত্র এই ২টি দিনের জন্য যেখানে তাকিয়ে থাকেন ঘুড়ি ব্যবসায়ীরা। করোনার জেরে সেই ব্যবসায়ে জোর আঘাত এসে পড়ল এবার বলেই জানিয়েছেন শহরের একাধিক ঘুড়ি ব্যবসায়ী।

বর্ধমান শহরে দ্রুতহারে করোনা বাড়তে থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সমস্ত বাজার, দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে, শুক্রবার বর্ধমান শহরের বাহিরসর্বমঙ্গলা পাড়ার ঘুড়ির মেলা এবং শনিবার ১ মাঘ বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী সদরঘাটের ঘুড়ি মেলা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। কিন্তু করোনার ধাক্কায় এবারে ঘুড়ি ব্যবসায়ীরা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েছেন। বর্ধমান শহরের বিখ্যাত ঘুড়ি তৈরীর প্রতিষ্ঠান পাণ্ডে কাইট-সের কর্ণধার প্রতাপ পাণ্ডে জানিয়েছেন, করোনার জেরে এবারে ঘুড়ির বাজার শেষ। তার ওপর ঘুড়ি মেলার আগের দিন সমস্ত বাজার দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশে যদিও বা কিছু বিক্রি হত তা হয়নি।

যদিও তিনি জানিয়েছেন, ঘুড়ি মেলার আগে এই দোকান বন্ধের ঘোষণা নিয়ে তাঁরা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করার পর ঘুড়ির দোকান খোলায় শীথিলতা দেখানো হয়। কিন্তু আমজনতার কাছে ঘুড়ির দোকান যে বৃহস্পতিবার খোলা থাকবে সেই প্রচার হয়নি। ফলে বিক্রিবাটাও হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, সারাবছর ধরে তাঁরা বসে থাকেন এই ২টি দিনের জন্যই। কিন্তু এবারে করোনার কারণে তাঁদের ব্যবসায় ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে।

এরই পাশাপাশি প্রতাপবাবু জানিয়েছেন, এবছর চিনা মাঞ্জার আমদানী এবং চাহিদা কোনোটাই নেই। বরং কটন মাঞ্জার প্রতিই ফের আস্থা ফিরেছে সাধারণের। এদিকে, রাত পোহালেই পৌষ পার্বণ। ফলে বিশেষ করে বর্ধমানের দামোদর নদে মকর স্নানকে ঘিরে পুলিশী তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। বর্ধমানের ডিএসপি হেডকোয়ার্টার অতনু ঘোষাল জানিয়েছেন, প্রতিবারের মতই এবারও দামোদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকছে। থাকছে সবরকমের নজরদারী। একইসঙ্গে করোনা জনিত কারণে সমস্ত মেলা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সমস্ত রকম জমায়েত বন্ধেরও।

Recent Posts