---Advertisement---

বর্ধমানে দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত মানুষদের ভ্যাকসিন প্রদান

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গোৎসব। সারাবছর এই উৎসবের দিকেই তাকিয়ে থাকেন হাজার হাজার শিল্পী, কলাকুশলী থেকে সমাজের বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু গত দুবছর যাবৎ এই দুর্গোৎসব বাঙালির কাছে অচেনা হয়ে পড়েছে। এর মূল কারণ – অতিমারী করোনা ভাইরাসের আক্রমণ। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন প্রথম থেকেই কপ্রকার বদ্ধপরিকর। আর সেই কারণেই দীর্ঘ গত বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু করে এখনো রাজ্য জুড়ে কমবেশি বিধিনিষেধ আরোপ করা রয়েছে। যদিও এরই মাঝে গত বছর হবে না হবে না করে দুর্গা পুজো নমঃ নমঃ করে হলেও হয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

ফলে পুজোকে কেন্দ্র করে রোজগার থেকে যাদের সারাবছর পেট চলে, তাঁরা কিছুটা অন্তত সুবিধা পেয়েছিলেন। তাই এই বছর যাতে সংক্রমণবিহীন দুর্গোৎসব পালন করা যায় তার জন্য সকলেই উঠেপড়ে লেগেছে। ইতিমধ্যে সংক্রমণের হারও বেশ নিম্নমুখী। তবু সাবধানতার মার নেই। আর এই ভাবনাকে মাথায় রেখেই এবার ফোরাম ফর দুর্গোৎসব ও বর্ধমান দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতির উদ্যোগে সেই সমস্ত মানুষ যাঁরা গড় বাঙালির প্রিয় দুর্গাপুজো উৎসবকে আনন্দমুখর করে তোলার মূল কারিগর, শনিবার বর্ধমানের আলমগঞ্জের কল্পতরু মাঠের অনুষ্ঠানবাড়িতে তাঁদের ভ্যাকসিন দেওয়ার আয়োজন করল।

ভ্যাকসিন দেওয়া হল সেই সমস্ত ঢাকিদের যাঁদের ঢাকের বোলে দুর্গা আসার হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে তোলে। সেই সমস্ত ডেকরেটর শিল্পীদের – যাঁদের হাতের ছোঁয়ায় মণ্ডপ হয়ে ওঠে অনন্য। হাঁ করে দাঁড়িয়ে দেখে মন জুড়িয়ে যায় দর্শকদের। সেই সমস্ত মূর্তির কারিগর, যাঁদের শৈল্পিক চোখে মাটির মূর্তি প্রায় প্রাণ। সেই সমস্ত মানুষদের কথা ভেবেই এদিন প্রায় ৪০০জনকে কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজ দেওয়া হল।

দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতির সম্পাদক রাজেশ সাউ জানিয়েছেন, হাতেগোনা আর কয়েকটা দিন বাকি দুর্গোৎসবের। তাই দুর্গাপুজোর সাথে সরাসরি যুক্ত বিভিন্ন পুজো কমিটির সদস্য, ঢাকি, পুরোহিত, ডেকরেটর, লাইট ও মাইক ম্যানদের ভ্যাকসিনেশন করা হল। বর্ধমানের কল্পতরু মাঠ সংলগ্ন অনুষ্ঠান বাড়িতে আয়োজিত এই ক্যাম্পে প্রায় ৪০০ জনকে কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। পুজোর আগেই দ্বিতীয় ডোজও দিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাজেশ সাউ জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে তাঁরা চাইছেন দুর্গাপুজোর সাথে সরাসরি যুক্ত বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিকে ভ্যাকসিন দিয়ে করোনার চেনকে ভাঙতে।

পুজোর সময় মন্ডপে মন্ডপে হাজার হাজার দর্শনার্থী ঠাকুর দর্শনে বের হোন। তাই পুজোর আগে যতদূর সম্ভব পুজোর সাথে যারা সরাসরি যুক্ত তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করতে চান তাঁরা। এর মধ্য দিয়ে পুজোর সময় করোনার বিরুদ্ধে লড়াই আরও সহজ হবে। সকলে সামিল হতে পারবেন পুজোর আনন্দে। বস্তুত, এদিন সেই সমস্ত মানুষ যাঁরা ভ্যাকসিন নিলেন তাঁরাও জানিয়েছেন, তাঁদের কথা এই উদ্যোক্তারা ভেবেছেন – এটা তাঁদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের। একইসঙ্গে এদিন ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়ার পর করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার মানষিক জোরও তাঁরা ফিরে পেলেন।

প্রসঙ্গত রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার পর এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। এদিন বর্ধমান পৌরসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে এসে এই ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচির অনুষ্ঠানেও ঘুরে যান রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব তথা ইউ ডি এম এ-এর যুগ্ম সম্পাদক জলি চৌধুরী এবং ওনার টিম। তিনি এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

See also  শুভেচ্ছা কার্ড আর সিতাভোগ পাঠিয়ে বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়কের অভিনব বিজয়া পালন
শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---