latest

পুজোর আগেই টোটো জট মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ বর্ধমান পুরসভার, শহরের রাস্তায় দুটি শিফটে চলবে ৪৩০০ টোটো

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: পুজোর আগেই বর্ধমান শহরের টোটো জট মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ শুরু করে দিল বর্ধমান পুরসভা। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন,” ইতিমধ্যেই আমরা ৪৩০০ টোটো কে পুর এলাকার ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে চলাচলের জন্য বেছে নিয়েছি। এরজন্য গত কয়েকমাস ধরে প্রত্যেক ওয়ার্ডের জন প্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানে ক্যাম্প করে নির্দিষ্ট কাগজপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। তবুও এখনও বেশ কিছু টোটো অনুমোদনহীন ভাবে শহরের রাস্তায় চলাচল করছে। এমনকি আমরা এর আগে বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক মিটিং করে আগামীদিনে টোটো চলাচলের ক্ষেত্রে কি কি নিয়ম বলবৎ করা হবে সে ব্যাপারেও জানিয়ে দিয়েছি। যেমন দুটি শিফটে দুটি ভিন্ন রঙের টোটো নির্দিষ্ট রুটে চলাচল করবে শহরে। তারজন্য টোটোর মালিকদের নিজেদের টোটো কে রং করিয়ে নেওয়ার জন্যও বলে দেওয়া হয়েছে।

এরপরও এখনও প্রায় ৭০০ টোটোর রং করা বাকি আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এরই মধ্যে ৩৬০০ টোটো মালিক তারা নিজেদের টোটো কেউ সবুজ সাদা আবার কেউ নীল সাদা রং করিয়ে নিয়েছে। এরপরও বহু রঙহীন টোটো শহরের রাস্তায় চলাচল করছে। আগামী সপ্তাহের পর পুরসভার অনুমোদনহীন কোনো টোটো শহরের রাস্তায় আর চলবে না। আগামী ১৫ ও ১৬তারিখ বর্ধমান সংস্কৃতি লোকোমঞ্চে সমস্ত টোটো র মালিকদের নিয়ে  প্রকাশ্যে লটারি করে রুট বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে। আর এরপর দুভাগে ভাগ করে প্রতিদিন নির্দিষ্ট রংয়ের টোটো নির্দিষ্ট রুটে, নির্দিষ্ট সময়ে শহরের রাস্তায় চলাচল করবে। এই ব্যবস্থা অবিলম্বে চালুর জন্য প্রশাসনের সব স্তরে জানানো হয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহ থেকেই বর্ধমান শহরে নির্দিষ্ট রঙের টোটো ছাড়া বাকি টোটো চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। পরবর্তী ক্ষেত্রে শহরের রাস্তায় অবৈধ রিক্সা ও মোটর সাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” শহরের রাস্তায় যানজট ও দূষণ কমাতেই এই উদ্যোগ বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এরফলে পুজোর আগেই শহরের রাস্তায় যানজট কমানো যাবে বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে ক্যাম্প করে পুর এলাকার টোটো গুলি চিহ্নিত করা হয়। মোট টোটোর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৩০০ টি। পরে সেগুলিকে রং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত ৩৬০০ টি টোটো রং করার কাজ শেষ হয়েছে। ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্য লটারির মাধ্যমে রুট ভাগ করে দেওয়া হবে। আগামী একবছর সেই রুটেই  চলাচল করবে টোটো গুলি। পরবর্তী ক্ষেত্রে ফের লটারির মাধ্যমে রুট পরিবর্তন করা হবে। দিনের বেলায় নীল-সাদা ও রাতে সবুজ-সাদা রঙের টোটো চলাচল করবে। প্রতি একমাস অন্তর এই নিয়ম পরিবর্তন করা হবে। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস জানান, ” আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিয়ম চালু হয়ে যাবে। অধিকাংশ টোটোর রেজিস্ট্রেশনের কাজ শেষ হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে যেগুলির সঠিক কাগজ বা নথি না থাকার কারণে রেজিস্ট্রেশন স্থগিত রাখা হয়েছে। এই কাজ শেষ হলে শহরের রাস্তায় চলাচলকারী পায়ে টানা রিক্সা গুলিরও রেজিস্ট্রেশন করা হবে। এমনকি, শব্দ সৃষ্টিকারী মোটর বাইকের ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো হবে।”

Recent Posts