জঙ্গি যোগ! দাঁইহাটের সুন্দরী যুবতী এখন দেশের দু’টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে

Souris  Dey

Souris Dey

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,কাটোয়া: বয়স ২৯ বছর। বিভিন্ন অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন। বাংলা ছাড়াও হিন্দি, ইংরেজিতে তুখোড়। সাত মাস ধরে তিনি বাড়ির বাইরে রয়েছেন। কলকাতা ছাড়াও দিল্লিতেও তাঁর যাতায়াত রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের দাঁইহাট শহরের সুন্দরী ওই যুবতী এখন দেশের তাবড় দু’টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ মিলেছে। সেদেশে যাওয়ার জন্য ভিসা পেতে তিনি আবেদনও করেছেন। সাধারণ এক যুবতী পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠায় গোয়েন্দাদের ঘুম ছুটেছে। গোয়েন্দা আধিকারিকরা তাঁর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু পাকিস্তান যাওয়ার বিষয়টি বাড়ির লোকজনের জানা নেই বলে তাঁরা আধিকারিকদের জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবতী এর আগে পাসপোর্টের জন্য কলকাতা অফিসে আবেদন করেছিলেন। ২০২০সালের ২৫ নভেম্বর তিনি পাসপোর্ট হাতে পান। ২০৩০ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর পাসপোর্টের মেয়াদ রয়েছে। পাকিস্তানের ভাইকালয় এলাকায় তিনি যেতে চান বলে ভিসার আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন। ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে তিনি সেদেশে যেতে চান।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন। আদনান খান নামে ওই যুবকের ফোন নম্বরও আধিকারিকদের হাতে এসেছে। ০০৯২৩৪০৯৩২৭৩৫৫ পাকিস্তানের এই মোবাইল নম্বর থেকে বেশ কয়েকবার ওই যুবতীর কাছে কল এসেছিল। হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে তাঁরা একাধিকবার কল করেছেন। মাঝে পাকিস্তান থেকে অন্য দু’টি মোবাইল নম্বরে ফোন আসত। সেই নম্বর দু’টি পরে বদলে ফেলা হয়।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক আধিকারিক বলেন, ওই যুবতীর গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েকবার কথাও বলা হয়েছে। তিনি পাকিস্তানের কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা প্রথমদিকে স্বীকার করেননি। কিন্তু ভিসার আবেদনপত্রটি তাঁকে দেখানোর পর তিনি জানান, পাকিস্তানের এক যুবকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণেই তিনি সেদেশে যেতে চান। তবে গোয়েন্দারা বিষয়টি হালকাভাবে নিতে নারাজ। তাঁরা যুবতীর উপর নজর রাখার জন্য পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিসকে জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক আধিকারিক বলেন, ভিসার আবেদনপত্রে ওই যুবতী নিজেকে ছাত্রী বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ তিনি বিভিন্ন জায়গায় সঞ্চলনার কাজ করেন। সেই তথ্য হাতে এসেছে। যুবতীদের আর্থিক অবস্থা খুব ভালো নয়। তবে ওই যুবতীর জীবনযাত্রার মান বেশ উঁচু। তিনি বহুদিন ধরেই কলকাতায় রয়েছেন। ওই যুবতীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। পাকিস্তান থেকে তাঁর কাছে অর্থ এসেছিল কি না, তা জানতে দু’টি গোয়েন্দা সংস্থা মরিয়া। ওই যুবতী কোথায় রয়েছেন, কী করছেন, সবকিছুই গোয়েন্দাদের নজরে রয়েছে। সম্প্রতি তিনি কার কার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন, সেই কল ডিটেলসও তাদের কাছে রয়েছে।

ছবি – প্রতীকী

আরো পড়ুন