ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,জামালপুর: নন্দ মুর্মুর বয়স তখন ১৪ বছর। নেহাতই নাবালক। সংসারে অভাব থাকায় ছেলেকে পরিচিত একজনের সঙ্গে পাঞ্জাবে সোনার দোকানে কাজে পাঠিয়েছিল বাবা মা। চার দিন যেতে না যেতেই দোকান মালিক ফোন করে জানায় ছেলে কোথাও চলে গেছে। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারপর আর ঘরের ছেলে ঘরেও ফেরেনি। দেখতে দেখতে এরই মাঝে ১১টা বছর কেটে যায়। জামালপুর থানার বত্রিশবিঘা দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুর্মু পরিবার কার্যত হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। ছেলে কি আদৌ কোনোদিন ফিরে আসবে ঘরে! ভাবলেই কেঁদে উঠতো মায়ের বুক। গতকাল অর্থাৎ সোমবার সন্ধ্যায় হটাৎই জামালপুর থানা থেকে নন্দ মুর্মুর বাড়িতে ফোন করে জানায়, এক যুবক তাদের হেফাজতে রয়েছে, থানায় এসে দেখার জন্য যে এই ছেলেটি তাদের পরিচিত কিনা।

তড়িঘড়ি মা সহ পরিবারের লোকজন ছুটে যান থানায়। তারা গিয়ে দেখেন, শীর্ণকায় এক যুবক বসে রয়েছে। প্রথমে চিনতে না পারলেও, পরে শরীরের বিশেষ কিছু চিহ্ন দেখে মায়ের চোখ ছলছল করে ওঠে। ১১ বছরে চেহারার অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। নন্দর বয়স এখন ২৫। মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থও। শরীরের বিভিন্ন জায়গার চিহ্ন দেখে পরিবারের সদস্যরা অবশেষে সনাক্ত করেন তাদের ছোট ছেলে নন্দকে। এরপর আইনী প্রক্রিয়া মেনে পুলিশ পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেয় নিখোঁজ ছেলেকে। ঘরের ছেলে কে ফিরে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েন সকলে। আত্মীয় পরিজনদের ও প্রতিবেশীদের ডেকে বাড়িতে মিলন উৎসব হবে বলেও জানিয়েছেন নন্দ’র দাদা।
জানা গেছে, পরিবারের অভাবের জেরে ১৪ বছরের নন্দ মুর্মুকে এলাকারই পরিচিত একজনের সাথে সোনার কাজ শেখার জন্য বাবা মা পাঠিয়েছিলেন পাঞ্জাবে। কাজের সন্ধানে নাবালক ছেলে চলে গিয়েছিল ভিন রাজ্যে। তারপর সেখান থেকেই হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যায় সে। তন্নতন্ন করে খোঁজ চালিয়েও আর নন্দর কোনো হদিশ পায়নি পরিবার। আত্মীয়স্বজন সহ সকলকে জানালেও কেউই সন্ধান দিতে পারেনানি। জামালপুর বাজার সহ নানা জায়গায় পরিবার সদস্যরা নন্দর কে খুঁজে পেতে জানিয়ে রেখেছিলেন। সম্প্রতি জামালপুরের কাঠুরিয়া পাড়া এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক এসে হাজির হয়।
সেখানেই রাস্তার ধারে লোকের কাছে চেয়ে খাওয়া দাওয়াও করছিল এক যুবক গতকাল জামালপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি হোটেলে খাবার খেতে আসে সে। সেখানেই যুবককে দেখে অনেকের সন্দেহ হয়। এরপর খবর যায় জামালপুর থানার পুলিশের কাছে। পুলিশ কাঠুরিয়া পাড়া থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে নিয়ে আসে থানায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালিয়ে যুবকের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে পুলিশ। পরিবারের লোকেদের খবর দেওয়া হলে তারা এসে ছেলেকে শনাক্ত করে বাড়ি নিয়ে যায়।