ক্রাইম

বাংলাদেশ পাচারের আগেই নাবালিকাকে উদ্ধার করল মাধবডিহি থানার পুলিশ

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,মাধবডিহি: পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না ২ ব্লকের মাধবডিহি থানার অন্তর্গত পাঁইটা ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের শেরপুর গ্রাম থেকে গত ১০ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল একাদশ শ্রেণীর এক নাবালিকা ছাত্রী। নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে ওইদিনই মাধবডিহি থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন নাবালিকার বাবা। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই মাধবডিহি থানার ওসি উত্তাল সামন্ত নিজে গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। জেলা পুলিশের এসওজির আধিকারিকদের সাহায্য নিয়ে মোবাইলের সূত্র ধরে মেয়েটির খোঁজ শুরু করে।

আর নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ২৪ঘণ্টার মধ্যেই খোদ নাবালিকা কে উদ্ধারের পাশাপাশি নাবালিকার অপহরণকারী কেও গ্রেপ্তার করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুদূর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাগদা থানার বাংলাদেশ সীমানা সংলগ্ন চৌঠিয়া গ্রাম থেকে ওই নাবালিকা কে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সাথে গ্রেপ্তার করেছে অপহরণকারী কেও। সোমবার অপহরণকারী রাজ বিশ্বাস(২৬) কে বর্ধমান আদালতে সিজেএম কোর্টে পেশ করে পুলিশ। বিচারক ধৃতকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাবালিকার বাবা লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন ফেসবুক মারফত প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে রাজ বিশ্বাস ওরফে রাজু নামে এক যুবক ওই নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে চলে যায়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, উত্তর ২৪ পরগনার ইছামতি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে মেয়েটিকে। পুলিশ আরো জানতে পারে ওই এলাকা থেকে বাংলাদেশ ঢুকতে কেবল নদী পেরোনোর দূরত্ব। তখনই পুলিশের অনুমান হয় নাবালিকাকে বাংলাদেশে পাচার করার মতলব থাকতে পারে অপহরণকারীর। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বাগদা থানাকে বিষয়টি জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেখানকার পুলিশ প্রথমে সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি বিষয়টিতে। উত্তর ২৪ পরগণার জেলা পুলিশের পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন জেলা পুলিশের কর্তারা। এরই মধ্যে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের নির্দেশে মাধবডিহি থানার সাব ইন্সপেক্টার সঞ্জয় ঘোষ, পিএসআই শ্রীসাম দাস সহ আরও কয়েকজন পুলিশকর্মী কে বাগদার উদ্দেশ্যে রওনা করে দেওয়া হয়। মাধবডিহি থানার পুলিশ বাগদায় পৌঁছলে সেখানকার পুলিশের সহযোগিতায় ইছামতি নদীর ধারে চোয়াটিয়া গ্রামের কাছ থেকে নাবালিকা ও অপহরণকারী রাজ বিশ্বাস দু’জনকেই উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই রাজ বিশ্বাস ওরফে রাজুর সঙ্গে বাংলাদেশের যোগ সূত্র রয়েছে। নিয়মিত যাতায়াতও আছে বলে জানতে পারে। সেখানে অভিযুক্তের আত্মীয়ও রয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে অভিযুক্ত প্রথমে ফেসবুক এর মাধ্যমে নাবালিকা মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরী করে। তাদের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরী করে তাদের ফাঁসায়। তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা অভিযুক্ত নারী পাচারের সঙ্গে যুক্ত কিনা তা খতিয়ে দেখছে। আদালত সূত্রের খবর নাবালিকা মেয়েটির গোপন জবানবন্দি নেওয়া হবে।

Recent Posts