বর্ধমানে তৃণমূল কর্মী নাবালিকা ছাত্রীর রহস্য মৃত্যুর পাঁচদিন পরেও অধরা মূল অভিযুক্ত তৃণমুল কাউন্সিলার, অধীরের সাক্ষাৎ পরিবারের সঙ্গে

Souris  Dey

Souris Dey

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: ঘটনার পাঁচদিন কেটে গেলেও নাবালিকা ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেবার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত বর্ধমানের ২৭ নং ওয়ার্ডের নব নির্বাচিত কাউন্সিলার সেখ বসিরুদ্দিন আহমেদ ওরফে বাদশা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। শাসক দলের কাউন্সিলার বলেই অভিযুক্তকে ধরছে না পুলিশ, এমনি অভিযোগ করেছে বর্ধমানের কংগ্রেস ও সিপিএম নেতৃত্ব। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বসিরুদ্দিন আহমেদ। তার দাবী, তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে সে আত্মসমর্পণ করবে। এমনকি তিনি নিজেই সিআইডি তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে মৃতার পরিবারের অভিযোগ, প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে বাদশা। শুধু পুলিশই খুঁজে পাচ্ছে না। এমনকি অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য মৃতা নাবালিকার পরিবারের উপর চাপ দিচ্ছে বাদশা। পরোক্ষভাবে দেওয়া হচ্ছে নানান হুমকি বলেও সোমবার অভিযোগ করেছে মৃতার পরিবারের সদস্যরা। এরই পাশপাশি দোষীদের গ্রেপ্তার ও মৃতার পরিবারের নিরপত্তার দাবীতে প্রশাসনের উপর চাপ বাড়াচ্ছে বিরোধীরা। এরই মাঝে সোমবার মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। পরিবারের সঙ্গে তিনি দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন।

তিনি জানান, হাওড়ার আমতায় আনিস খান কে খুন করার পর তার বাবাকে ধমকাচ্ছে। এখানে একই ঘটনা। নাবালিকার মৃত্যুর পরেও তার পরিবারের অন্য মহিলাদের উপর অত্যাচার করে বাহাদুরি দেখাচ্ছে শাসক দলের নেতা, কর্মীরা। পরিবারের তরফে এদিন অধীরকে জানানো হয়, দেহ যখন বাড়িতে ছিলো তখনও তাদের মারধর করেছে। এখনও হুমকি দিচ্ছে। অধীর রঞ্জন চৌধুরী জানান, ওরা এটা করছে কেস তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতেই, ভয় দেখাচ্ছে। এরপর টাকার বাণ্ডিল, চাকরীর কথা বলবে। পরিবার থেকে যদিও সাফ বলে দেওয়া হয়েছে,তাদের কিছু দরকার নেই, নয় বোনকে ফিরিয়ে দিতে হবে, নয়তো বিচার চাই।

অধীর চৌধুরী এদিন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, পরিবার আতঙ্কিত, দিশেহারা। পরিবারের সদস্যরা এদিন তাকে জানিয়েছেন, দেহ বাড়িতে থাকার সময়ই বাকী দুই বোনের উপর অত্যাচার করা হয়েছে। এটাই পশ্চিমবঙ্গের আসল চেহারা। এখানে আনিশ খান হত্যার বিচার হয় না, দলেরই কর্মী, ছাত্রী একজন নাবালিকাকে লাগাতার অত্যাচার, হুমকি সহ্য করতে না পেরে মরতে হয়, তার কোনো বিচার হয় না। বাংলা রসাতলে গেছে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে বলবো, আপনারই দলের সাথে পার্টি করতো। বিপদের দিনে এই পরিবারের পাশে তৃণমূলের কারোও আসা উচিত ছিলো, এখনও তাদের বাড়িতে তৃণমূলের পতাকা লাগানো আছে। পাশাপাশি তার আরোও অভিযোগ, তৃনমুল আজ নরখাদকের দলে পরিনত হয়েছে। এতবড় ঘটনার পরেও সরকারি দলের লোক তাই খুলেআম ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমরা হাইকোর্টে যাবো।”

মৃতার দিদি কুহেলী বিবি বলেন, “বসির আহমেদ চোখে গগলস লাগিয়ে, নিত্য নতুন ড্রেস পরে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আজও হুমকি দিচ্ছে। সোমবারও পাড়ারই এক মহিলা তার বাচ্চা কে স্কুলে যাবার পথে বাদশার লোক ওই মহিলাকে হুমকি দিয়েছে। হুমকি দিয়ে বলছে, একটা মরে শান্তি হয়নি মনে হচ্ছে এখনও যাবে। চুপচাপ হচ্ছে না এরা। পুলিশকে বলেছি, পুলিশ বলছে বাদশা কে নাকি খুঁজে পাচ্ছে না।” কুহেলী বিবি অভিযোগ করে বলেন, “বাদশার লোকেরা অভিযোগ তোলার জন্য হুমকি দিয়ে বলছে ঝামেলা করে কি হবে? থাকতে হবে এখানে। বসির আহমেদ ও তার অনুগামীরা বলেছে, তোদের মরতে হবে তিনজনকে।”

কুহেলী বিবি বলেন, “আমরা ভয় করবো না। আমরা যেখানে বিচার পাবো সেখানেই যাবো। সেটা যে রাজনৈতিক দল আসুক না কেন। বসির আহমেদের শাস্তি চাই।” তার আরোও অভিযোগ, বসির আহমেদ দাড়িয়ে থেকে এসব করিয়েছে। বসিরের পদত্যাগ চাই। অন্যদিকে সিপিএমের ছাত্র,যুব ও মহিলা সংগঠনও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে রাস্তায় নেমেছে। সিপিএমের অভিযোগ বসির আহমেদ ত্হমূলের নেতা বলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় নি। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করে তৃনমুলের জেলা মুখপাত্র প্রসেনজিত দাসের দাবী, “দোষীদের শাস্তির দাবী আমরাও চাই। তদন্তে দোষী হলে সে তৃণমুল করলেও ছাড় পাবে না। আইন আইনের পথে চলবে।”

আরো পড়ুন