বর্ধমানে প্রথমবার পুজো কার্নিভাল ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা, চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি

Souris  Dey

Souris Dey

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কলকাতার পাশাপাশি এবার জেলাগুলোতেও প্রথমবার আয়োজিত হচ্ছে পুজো ‘কার্নিভাল’। বর্ধমানেও প্রথমবার ‘মা’ কার্নিভাল কে ঘিরে সাধারণের মধ্যে উদ্দীপনা তুঙ্গে। আগামীকালকের এই অনুষ্ঠান কে ঘিরে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি প্রায় সারা। নির্বিঘ্নে এই বিশাল কর্মসূচি কে সম্পন্ন করার জন্য ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। অন্যদিকে কার্নিভালে অংশগ্রহণ করবে এমন শহরের ৩১টি পুজো কমিটিও তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। একে অপরকে টেক্কা দিতে শোভা যাত্রায় যে চমক থাকবে সেকথা এদিন জানিয়েছেন একাধিক পুজো উদ্যোক্তারা।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসন সূত্রে জানাগিয়েছে, ৩১টি পুজো কমিটির মধ্যে দুটি মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটিও রয়েছে। বিকেল পাঁচটা থেকে কার্নিভাল শুরু হবে। বিকেল পাঁচটা থেকে বড়নীলপুর সৎসঙ্ঘ আশ্রমের সামনে থেকে জিটি রোড ধরে কার্জন গেটের সামনে দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার জি টি রোড ধরে যাওয়ার পরে পাঞ্জাবী পাড়ার মোড়ে গিয়ে কার্নিভাল শেষ হবে। সেখান থেকে পুজো কমিটি গুলি নিজ নিজ রাস্তায় ভাগ হয়ে গিয়ে বিসর্জনের জন্য এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে পুজো কমিটি গুলি ইচ্ছা অনুযায়ী পুকুরে বিসর্জন করতে পারবেন।

জেলা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কার্জন গেটের সামনে প্রতিটি পুজো কমিটি তিন মিনিটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবেন। প্রতিটি কমিটি তিনটে বড় আর চারটে ছোট গাড়ি শোভাযাত্রায় রাখতে পারবেন। আলোকসজ্জা ১৮ ফুট লম্বা আর ১০ ফুটের বেশি চওড়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য কমল সায়রে ব্যবস্থা থাকবে। অন্যান্য জলাশয়গুলোতেও আলো ও সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন রাখা হবে।

এদিকে শুক্রবার সকাল থেকেই শহরের রাস্তায় যান চলাচলের উপর ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। শুধুমাত্র কার্নিভালের জন্যে হাজার খানেক পুলিশ ও সিভিক ভলেন্টিয়ার জিটি রোড বরাবর মোতায়েন রাখা হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহরায়। তিনি জানিয়েছেন, শহরের আলিশা বাস স্ট্যান্ড থেকে গোলাপবাগ পর্যন্ত পন্যবাহী গাড়ি সকাল আটটা থেকে জিটি রোডে ঢুকতে পারবে না। টাউনসার্ভিস সহ সমস্ত বাস পরিষেবা বন্ধ থাকবে বেলা বারোটা থেকে। মোটর সাইকেল ও ছোট গাড়ি বিকাল সাড়ে চারটের পর থেকে জিটি রোডে চলবে না। একই সঙ্গে এই রুটে দুপুর ২টোর পর থেকে সমস্ত টোটো চলাচল সম্পুর্ন বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি ভিত্তিতে এম্বুলেন্স, দমকল ও অন্যান্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত গাড়ি চলাচল করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা চালু রাখবে জেলা প্রশাসন।

এব্যাপারে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলাশাসকের দফতরে বৈঠক করেন প্রশাসনিক কর্তারা। জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা বলেন, “নিরাপত্তা ও সুরক্ষার উপরে নজর দেওয়া হয়েছে। পুরো রাস্তার চার জায়গায় সহায়তা কেন্দ্র থাকবে। বড়নীলপুর, পারবীরহাটা ও পাঞ্জাবী পাড়া মোড়ে আলাদা করে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে মেডিক্যাল, পূর্ত ও বিদ্যুৎ দফতরের ইঞ্জিনিয়াররা থাকবেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা দলও থাকবে।

বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, “কার্জন গেটের কাছে ২৫০ আসনের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আধিকারিক, মন্ত্রী-বিধায়ক, পুলিশের কর্তা থেকে অতিথিরা হাজির সেখানে উপস্থিত থাকবেন।  কার্নিভালকে আকর্ষনীয় করে তুলতে বলিউডের এক অভিনেতাকে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে পুজো কমিটিগুলোকে উৎসাহিত করার জন্যে প্রথম তিনটি কমিটিকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার কথাও ভাবা হয়েছে।”

আরো পড়ুন