খন্ডঘোষ থানার অভিযান, রাউতাড়ায় আটক দুটি বালির ট্রাক্টর, গ্রেপ্তার দুই চালক, বন্ধ অবৈধ বালিখাদ

Souris  Dey

Souris Dey

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,খন্ডঘোষ: সোমবার খন্ডঘোষ ব্লকের গোপালবেড়া অঞ্চলের রাউতাড়া মৌজার দারকেশ্বর নদী থেকে অবাধে বালি লুঠের খবর প্রকাশ করেছিল ফোকাস বেঙ্গল। আর তারপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। রাতেই অভিযান চালিয়ে খন্ডঘোষ থানা রাউতাড়া কালীমন্দিরের কাছ থেকে বালি ভর্তি দুটি ট্রাক্টর ও একটি লরি আটক করে। বৈধ চালান না থাকায় বালির গাড়ি গুলিকে আটক করার পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বালি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ট্রাক্টর দুটির চালককে। ধৃতদের নাম শিশির ঘোষ ও প্রশান্ত বাগ। শিশিরের বাড়ি রাউতাড়া গ্রামে। খন্ডঘোষ থানারই কেন্দুর গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত। ধৃতদের মঙ্গলবার সিজেএম আদালতে তোলে পুলিশ। বিচারক ধৃতদের তিন দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ধৃতরা দুটি ট্রাক্টারের চালক বলে পুলিশ আদালতে জানালেও জেলা আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে শিশির ঘোষ নিজেই এই ট্রাক্টারের মালিক। তার গাড়ির ইন্সুরেন্স এর মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। শিশির ঘোষ এলাকায়  শাসক দলের সক্রিয় কর্মী বলেই পরিচিত। ধৃত প্রশান্ত বাগ যে ট্রাক্টারটি চালাচ্ছিলেন তার মালিক গৌতম মান্না। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে এরাই এলাকায় বালির কারবারের অন্যতম মাথা। গৌতম এলাকার তৃণমূলের প্রাক্তন যুব নেতা। তার নানা ধরণের অসামাজিক কাজের জন্য তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে খন্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে।

এদিকে বেআইনিভাবে বালি চুরির অভিযোগে আটক ট্রাক্টরের বিষয়ে গৌতম মান্না কে জানতে চাওয়া হলে তিনি স্বীকার করে নেন যে ট্রাক্টর টি তারই। এমনকি রীতিমত বেপরোয়া ভঙ্গিতে ফোনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন ‘ আপনি তো কাল খবর করেছিলেন, আজও করে দিন। আমার কিছু যায় আসে না।’ যদিও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে এই গৌতম মান্নার নেতৃত্বেই এলাকার প্রায় দশ থেকে ১২জন রাউতাড়া মৌজার দারকেশ্বর নদী থেকে দিনের পর দিন রাতের অন্ধকারে বালি তুলে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় মজুদ করার পর সকালে সেই বালি ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করতো। এরজন্য ট্রাক্টর পিছু মোটা টাকা মাসোহারা আদায় করতো এই বালি মাফিয়ারা।

স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, প্রশাসন অবিলম্বে এই অবৈধ বালি কারবারিদের গ্রেপ্তার করুক। এদিকে মঙ্গলবার পুলিশি অভিযানের পরই রাউতাড়া মৌজায় নদী থেকে বালি চুরি বন্ধের পাশপাশি চক্রের অনেকেই এলাকাছাড়া। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বালি চুরির খবর পাওয়ার পরই অভিযান চালানো হয়েছে। বেআইনিভাবে বালি পরিবহনের জন্য দুটি ট্রাক্টর ও একটি লরি আটক করা হয়েছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযান লাগাতার চলবে। কোনোভাবেই যাতে এই এলাকায় বালি চুরি চক্র সক্রিয় হতে না পারে তার জন্য টানা নজরদারি রাখা হবে।

আরো পড়ুন