কঠিন সংকটের মুখে কেন্দ্রীয় সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা

Souris  Dey

Souris Dey

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: আগামীদিনে আর পেনশনভোগী বলে কেউ থাকবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া নির্দেশের জেরে এখন নাভিশ্বাস উঠেছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মীদের। আর এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে কেবল অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা পারবেন না, প্রয়োজন সমমনোভাবাপন্ন সংগ্রামীদেরও। সোমবার বর্ধমান রেলওয়ে রঙ্গমঞ্চে রিটায়ার্ড রেলওয়ে এমপ্লয়িজ এ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ৩২তম শারদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। এদিন এই সম্মেলনে ২২জন আশির্দ্ধো অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। শারদ সম্মেলন উপলক্ষ্যে মৌলবাদের ভয়াবহতা শীর্ষক একটি আলোচনা চক্রে বক্তব্য রাখেন প্রাবন্ধিক গৌতম রায়।

বিজ্ঞাপন

 এদিন ফেডারেশন অব সেন্ট্রাল গর্ভনমেণ্ট পেনশনার্স অর্গানাইজেশন কলকাতার সভাপতি বাসুদেব সেনগুপ্ত বলেন, ১৯৯২ সালে তত্কালীন নরসিমা রাওয়ের সময়কালে পেনশনার্সদের জন্য যে নতুন নিয়ম চালু করা হয়, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার সেই নিয়মকেই গতি দিয়েছেন। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকারী পর্যায়ে আর কোনো পেনশনার্স থাকবেন না। ২০০৪ সাল থেকে যাঁরা চাকরিতে ঢুকেছেন তাঁরা এর আওতায় আসবেন না। শুধু তাই নয়, তাঁরা অবসরকালীন কোনো সুযোগ সুবিধাই কার্যত পাবেন না। 

বাসুদেববাবু জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাঁদের পাওনা ১৮ মাসের মহার্ঘ‌্য ভাতা। চাল, ডাল, আটা, তেল প্রভৃতি ভোজ্য বিষয়গুলিকে বাদ দেওয়া হয়েছে, ফলে মহার্ঘ‌্য ভাতার অর্থই আর থাকছে না। শুধু এটাই নয়, রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী চিকিৎসা সংক্রান্ত সুবিধাও কার্যত হারিয়ে যাচ্ছে। রেলের হাসপাতালগুলির চুড়ান্ত অব্যবস্থা। সেখানে গেলে ন্যূনতম চিকিৎসাও পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে রেলের বেসরকারীকরণের ফলে পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন হয়ে উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের। 

এরই পাশাপাশি রেল চালু করেছে এনড্রয়েড ই পাশ। রেলের কর্মীরা যে পাশের সুবাদে অন্তত চাকরীকালীন অবসরের পর চিকিৎসার  জন্য অন্যান্য জায়গায় যেতে পারতেন এই ই-পাশের ফলে সেই ব্যবস্থাতেও কোপ আসতে চলেছে। তাঁদের আন্দোলনের ফলে এখনও সরকার পুরনো ব্যবস্থাকেও নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে চালু রেখেছেন। কিন্তু তাঁরা মনে করছেন এই পুরনো ব্যবস্থাকে অচিরেই বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে সমস্যায় পড়বেন রেলের চতুর্থ শ্রেণীর অগণিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মী।

আরো পড়ুন