বর্ধমানে বাম-কংগ্রেসের চাক্কা জ্যামে আটকে গেল দুই মন্ত্রীর কনভয়, মন্ত্রীর গাড়িতে বামেদের হামলার অভিযোগ

Souris  Dey

Souris Dey

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: কেন্দ্রের কৃষি আইন বাতিলের দাবী সহ দিল্লী সীমান্তে আন্দোলনরত কৃষকদের জল বন্ধ করে দেবার প্রতিবাদে গোটা দেশ জুড়ে কৃষক সংগঠনগুলির ডাকা চাক্কা জ্যাম – আন্দোলনে অংশ নিলে পূর্ব বর্ধমান জেলা কৃষক সভা এবং জেলা কংগ্রেস। শনিবার বর্ধমানের ২নং জাতীয় সড়কের নবাবহাটে জেলা কংগ্রেস ও জেলা যুব কংগ্রেস এবং ফাগুপুর মোড়ে বামপন্থী কৃষক সংগঠনগুলি রাস্তা অবরোধ করে। প্রায় আধঘণ্টা এই অবরোধ চলে। এদিন এই অবরোধের জেরে আটকে পড়েন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু এবং প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের কনভয় আটকে থাকে। অভিযোগ উঠেছে এদিন বামেদের অবরোধে আটকে থাকা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের গাড়ির ওপর হামলা চালায় বামপন্থী সমর্থকরা। যদিও এদিন বামফ্রণ্টের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

 

এদিন মন্ত্রী সুজিত বসু এবং মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ গলসীর বুদবুদে দমকল ভবনের উদ্বোধনে যাচ্ছিলেন। অবরোধের জেরে তাঁরা আটকে পড়েন। এদিন সুজিত বসু জানিয়েছেন, তাঁরাও কৃষি আইন বাতিলের দাবীতে আন্দোলন করছেন। কিন্তু অবরোধের জেরে আটকে পড়ায় তাঁর সরকারী কর্মসূচীতে পৌঁছাতে দেরী হয়ে গেল। অন্যদিকে, এদিন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানিয়েছেন, কেন্দ্রের কৃষি আইন বাতিলের দাবীতে প্রথম মমতা বন্দোপাধ্যায়ই সরব হন। এমনকি তাঁরাও কৃষি আইন বাতিলের দাবীতে গ্রাম–গঞ্জে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিন কংগ্রেস ও বামেদের এই আন্দোলন সম্পর্কে স্বপন দেবনাথ জানিয়েছেন, তাঁরা কৃষকদের পাশেই আছেন। কিন্তু সরকারীভাবে তাঁরা বনধ বা অবরোধের স্বপক্ষে নন। 

উল্লেখ্য, এদিন দুপুর ২টো নাগাদ একই ইস্যুতে কংগ্রেস ও বামেরা পৃথক পৃথকভাবে ২নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। এদিন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিজিত ভট্টাচার্য, জেলা যুব কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব সমাদ্দার প্রমুখদের নেতৃত্বে নবাবহাট মোড়ে অবরোধ চলে। অন্যদিকে ফাগুপুরে বামেদের অবরোধে এদিন উপস্থিত ছিলেন জেলা সিপিএমের সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিক, জেলা কৃষক সভার সম্পাদক সৈয়দ হোসেন, কৃষকসভার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমল হালদার প্রমুখরা। বামেদের অবরোধও এদিন প্রায় আধঘণ্টা চলে। অপরদিকে, এই অবরোধের জেরে দুই মন্ত্রীর আটকে পড়ার খবর পেতেই ঘটনাস্থলে হাজির হন জেলা পুলিশের পদস্থ কর্তারা। তাঁরা দুই মন্ত্রীর কনভয়কে মুক্ত করে রওনা করে দেন।

 এদিন সিপিএমের কৃষক সভার জেলা সম্পাদক সৈয়দ হোসেন মন্ত্রীর গাড়ির ওপর হামলার অভিযোগ সম্পর্কে জানিয়েছেন, এরকম তাঁরা কিছু দেখেন নি। তিনি জানিয়েছেন, দিল্লীতে কৃষকদের ওপর অত্যাচার চলছে, মিথ‌্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের জল, বিদ্যুত, শৌচাগার বন্ধ করে দিয়ে একটা যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারই প্রতিবাদে এদিন তাঁরা দুপুর ২ থেকে ৩টে পর্যন্ত তাঁরা চাক্কা জ্যাম কর্মসূচী পালন করেছেন। অন্যদিকে, মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এদিন তাঁর গাড়ির ওপর হামলার পরিপ্রক্ষিতে জানিয়েছেন, বাংলার মানুষ এর বিচার করবে। ওরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।

আরো পড়ুন