বর্ধমানে আগামী ২০ তারিখ থেকে মিড ডে মিলের চাল আলু দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি তুঙ্গে

Souris  Dey

Souris Dey

বিজ্ঞাপন
ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: আগামী ২০ তারিখ থেকে জেলার সমস্ত স্কুলে স্কুলে মিড ডে মিল বাবদ ছাত্রছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ মাথা পিছু চাল ও আলু দেওয়ার কর্মসূচীকে ঘিরে এবার চুড়ান্ত বিভ্রান্তি দেখা দিল পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে। বুধবার এব্যাপারে পূর্ব বর্ধমান জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) দপ্তর থেকে যে দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে সরকারী নির্দেশ মত পঞ্চম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত মিড ডে মিলের চাল ও আলু দেওয়ার ক্ষেত্রে চলতি করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সমস্ত রকম বিধি মানতে হবে। এও বলা হয়েছে, কোথাও যাতে এই কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে জমায়েত না হয় বা সমস্যা দেখা না দেয় তার জন্য প্রতিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে। 
জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) শ্রীধর প্রামাণিকের দেওয়া এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল এই চারদিনে ছাত্র ছাত্রী পিছু ৩ কেজি চাল ও ৩ কেজি করে আলু দেবার জন্য ১৯ এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ২০ এপ্রিল পঞ্চম শ্রেণী, ২১ এপ্রিল ষষ্ঠ শ্রেণী, ২২ এপ্রিল সপ্তম শ্রেণী এবং ২৩ এপ্রিল অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য তাঁদের অভিভাবকদের হাতে এই চাল ও আলুর প্যাকেট তুলে দিতে হবে। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে কোনোভাবেই স্কুল চত্বরে ছাত্রছাত্রীরা যেন না আসেন। নির্ধারিত অভিভাবকদের হাতেই এই খাদ্য তুলে দিতে হবে। 
উল্লেখ্য, লকডাউন চলাকালীন সরকারীভাবে স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের না আসার ব্যাপারে কড়া নির্দেশ দেওয়া হলেও বুধবারই পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলীর দু’নম্বর ব্লকের পারুলিয়া কুলো কামিনী উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের বদলে ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া হয় চাল ও আলু। এমনকি সামাজিক দূরত্ব না মেনেই রীতিমত গা ঘেঁষাঘেঁষি করেই ছাত্রছাত্রীরা এদিন খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করতে আসে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। উল্লেখ্য, এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এলাকারই সিপিএমের বিধায়ক প্রদীপ সাহা। যদিও এব্যাপারে তিনি কোনো উত্তরই দিতে চাননি। একাধারে খোদ জনপ্রতিনিধি অন্যদিকে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এই আচরণকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। 
এদিকে, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে স্কুলে স্কুলে চাল ও আলু দেবার ব্যাপারে জেলা স্কুল পরিদর্শক শ্রীধর প্রামাণিক এই নির্দেশ দিলেও ইতিমধ্যেই এই বিষয় নিয়ে জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) হুমায়ুন বিশ্বাসও আলাদা করে নির্দেশ জারী করেছেন। অতিরিক্ত জেলাশাসকের নির্দেশ অনুসারে ২০ এপ্রিল প্রথম শ্রেণী, ২১ এপ্রিল দ্বিতীয় শ্রেণী, ২২ এপ্রিল তৃতীয় শ্রেণী এবং ২৩ এপ্রিল চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের এই চাল ও আলু দিতে হবে। অতিরিক্ত জেলাশাসকের নির্দেশ অনুসারে ২৪ এপ্রিল পঞ্চম শ্রেণী, ২৫ এপ্রিল ষষ্ঠ শ্রেণী, ২৬ এপ্রিল সপ্তম শ্রেণী এবং ২৭ এপ্রিল অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের এই চাল ও আলু দিতে হবে। আর এরপরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। 
বিভিন্ন ব্লক থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশেষত পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রাছাত্রীদের জন্য ২৩ থেকে ২৭ তারিখকেই মানতে হবে। সরকারী নির্দেশ অনুসারে যেহেতু চলতি লকডাউন পরিস্থিতিতে কেউই স্কুল মুখো হচ্ছেন না, তাই সমস্ত স্কুলকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এব্যাপারে সমস্ত অভিভাবকদের জানিয়ে দিতে হবে। আর সেখানেও দেখা দিয়েছে সমস্যা। কিভাবে এতো দ্রুত বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের জানানো যাবে ? পাশাপাশি কবেই বা অভিভাবকদের তাঁরা আসতে বলবেন? 
অপরদিকে, এই বিভ্রান্তির মাঝেই সমস্যা দেখা দিয়েছে শিক্ষককুলের। এই আলু ও চাল প্রদানের জন্য তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় স্যানিটাইজার বা গ্লাভস নেই। কিভাবে তাঁরা সেগুলি পাবেন? কারণ সরকারী নির্দেশ অনুসারে সমস্ত রকম সতর্কতা অবলম্বন করার কথা বলা হয়েছে। ফলে তানিয়েও রীতিমত দ্বন্দ্বে পড়েছেন শিক্ষকরা। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রশাসনিকভাবে স্যানিটাইজার এবং গ্লাভস দেবার জন্য আবেদনও জানানো হয়েছে। 
এদিকে, এই বিষয় সম্পর্কে জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) শ্রীধর প্রামাণিক জানিয়েছেন, বিভ্রান্তির কিছু নেই। ২০ থেকে ২৩ তারিখের মধ্যেই সমস্ত সেকেণ্ডারী স্কুল এই খাদ্যদ্রব্য দেবে। যেহেতু সরকারী নির্দেশে একটি করে ক্লাসের জন্য একদিন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে তাই প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত থাকা স্কুল গুলিতেই টানা ৮দিন এই প্রক্রিয়া চলবে। যদিও তিনি জানিয়েছেন, পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই ধরণের স্কুলের সংখ্যা অত্যন্ত কম। স্যানিটাইজার বা গ্লাভস প্রভৃতি দাবী সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, এখনও এব্যাপারে তাঁর কাছে কেউ আবেদন জানায়নি। 

আরো পড়ুন